August 9, 2026, 7:33 am
বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলাধীন সফিপুরের বোয়ালিয়া পুলিশ ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মুরাদ হোসেনের অনিয়ম ও অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকার অসংখ্য লোক।ঘটনাসূত্রে জানাযায়, এস.আই মুরাদ হোসেন বোয়ালিয়া পুলিশ ফাড়িতে যোগদানের পর থেকেই জড়িয়ে পরেন বিভিন্ন অনিয়মে। লোকজনের সাথে অসদাচরন আন্তরিকতাহীনতা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তিনি কোন আইনের তোয়াক্কা না করেই নিজের ষ্টাইলে আইনের অপব্যবহার করে আসছেন।জানাগেছে, তিনি সফিপুরের মোঃ এনামুল হোসেন (২৫), পিং কাঞ্চন হাওলাদার এর কাছ থেকে তার মোটরসাইকেল আটকে রেখে ৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেরে দেন। সফিপুরের হারুন চৌকিদার এর পুত্র মোঃ এরশাদ হোসেন এর মটরসাইকেল আটক করে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেরে দেন। সোনামদ্দিন বন্দরের মুদী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভোগ্যপন্য নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক- মোঃ জিদান (১০) পিতা- মোঃ ছত্তার ফকির কে চুরির অভিযোগে বেধে রেখে অমানবিক নির্যাতন করেন, এতে জিদানের গর্ভবতী বোন নিপা (২৫) তার শিশু ভাইকে ছাড়াতে আসলে মোঃ জামাল হোসেন, কামাল হোসেন, মোঃ বাবুল হোসেন, সর্বপিতা- আঃ কাদের, সর্বসাং চরবাটামারা, মুলাদী, বরিশাল সহ ৫-৬ জন তাকেও শারীরিক নির্যাতন করে এক, পর্যায়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। আহত নিপাকে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়ার পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পেনাল কোড এর একাধিক গুরুত্বপুর্ন ও অমিমাংসাযোগ্য ধারা লংঘনের পরেও এস.আই মুরাদ হোসেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ফাড়ির ইনচার্জ পর্যন্ত না আসার আগেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন।এলাকার একাধিক ব্যক্তি প্রতিনিধিকে জানান- পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ আমিরুল ইসলাম খুবই নম্র-ভদ্র ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে এস.আই মুরাদ হোসেন বেশীরভাগ সময় নিজেই ইনচার্জ এর দায়িত্ব নিয়ে পুলিশ সুপারের মত ক্ষমতা দেখান। লোকজনের সাথে খারাপ আচরন করেন এবং সব সময়ই অবৈধ উপার্জন করার ধান্দা খোজেন। করোনা মহামারীর কারনে সোনামদ্দিন বন্দরের দোকানপাট বন্ধ হলেও এস.আই মুরাদের বন্ধু ও সহযোগীদের দোকানপাট প্রায়ই খোলা থাকে এবং তিনি প্রায়ই সেসব দোকানে গিয়ে আড্ডা দেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান আসার আগের মুহুর্তে সেসব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং অভিযান শেষে আবার পুরনো চিত্র। বন্দরে কোন দোকানদার যেন কোলের, আর কেই পিঠের। এছাড়া মিনি পুলিশ ফাড়ি হিসেবে পরিচিত বন্দরের ফারুক খানের টিনের আড়ৎ এ বসে বিচার-শালিসী করেন, যার ভিড়িওচিত্র সাংবাদিকদের নিকট রয়েছে।বরিশাল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এই ৩ জেলার সীমান্ত ও মিলনস্থল সফিপুর, ফলে চুরী, ডাকাতী, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে রুট হিসেবে পরিচিত সফিপুর। অপরাধীদের প্রতিহত করতে দরকার পার্শ্ববর্তী তিন জেলার তিন থানার যৌথ অভিযান, যা তেমন একটা চোখে পড়েনা। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করে কয়েক মিনিটেই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ঢুকে পড়েন। ফলে এখানে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রন খুবই কষ্টসাধ্য।
এলাকাসু্ত্রে জানাগেছে, এস.আই মুরাদ নিয়মিত এলাকার অসাধু, মামলাবাজ, প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ লোকজনের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে চলাফেরা করেন এবং নিজের ধান্দা খুজেন। এস.আই মুরাদের সাথে কাধ মিলিয়ে চলার সুবাদে প্রভাবশালীরাও নিজের প্রভাব বিস্তারে সুবিধা পাচ্ছে এবং তাকে সুযোগ করে দিচ্ছেন দাবী অনেকের।এস.আই মুরাদের অনিয়মের বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (হিজলা-মুলাদী সার্কেল) মোহাম্মদ আনিসুল করিম এর সাথে কথা হলে তিনি এস.আই মুরাদের নাম লিখে রাখেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে জানান, তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সহকারী পুলিশ সুপারের কথার বাস্তবতা এখনও লক্ষ করা যায়নি।এবিষয়ে বোয়ালিয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ আমিরুল ইসলাম ঢাকা প্রেস ক্লাবের এক সাংবাদিককে জানান- উক্ত ঘটনা ও অভিযোগের কোন বিষয়ে আমি জানিনা এবং আমাকে অবগতও করা হয়নি। এস.আই মুরাদ আমার বন্ধু, আমরা একসাথে পুলিশে ট্রেনিং নিয়েছি, এখন আমার পদন্নোতি হয়েছে, তাই আমি পরিদর্শক (তদন্ত) আর মুরাদের হয়নি। আপনার তথ্য যদি সঠিক হয় তবে তাকে সাবধান করে দেব এবং আমি নিজে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিকট মুরাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।পুলিশী হয়রানীর ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না কেউ। তার কারনে এলাকায় প্রশাসনের ভাবমুর্তী ব্যবকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তে তার আরো অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে দাবী এলাকার জনগনের ।